কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ এ ০৮:০৭ PM

আরডিএ, বগুড়ায় ন্যানো ফার্টিলাইজার প্রয়োগ বিষয়ক গবেষণার মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ০৭-০৬-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ৩০-০৯-২০২৬

পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়ায় প্রচলিত রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ফসল উৎপাদনে ন্যানো ফার্টিলাইজার প্রয়োগের কার্যকারিতা যাচাই বিষয়ক গবেষণার ফিল্ড ট্রায়ালের মাঠ দিবস আজ ৭ জুন ২০২৬ (রবিবার) আরডিএ’র প্রদর্শনী খামারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আয়োজিত এ মাঠ দিবসে কৃষি গবেষক, সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

মাঠদিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরডিএ, বগুড়া’র মহাপরিচালক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ প্রামানিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আরডিএ’র অনুষদবৃন্দ, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বগুড়া’র অতিরিক্ত পরিচালক ও উপপরিচালক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, OFRD-BARI এর পরিচালক, মৃত্তিকা গবেষণা ইনসটিটিউটের বগুড়ার উপ-পরিচালক প্রমুখ।

গবেষণার আওতায় আরডিএ প্রদর্শনী খামারে BRRI dhan 92 ফলনের উপর ন্যানো ফার্টিলাইজারের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষামূলক গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণাটি র‍্যান্ডমাইজড কমপ্লিট ব্লক ডিজাইন (RCBD) পদ্ধতিতে স্থাপন করা হয় এবং ধানের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির স্তরে ন্যানো ফার্টিলাইজার ফলিয়ার অ্যাপ্লিকেশন করা হয়। গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল ন্যানো ফার্টিলাইজারের মাধ্যমে ফসলের বৃদ্ধি, ফলন ও ফলন সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যের উন্নয়ন এবং প্রচলিত রাসায়নিক সারের তুলনায় এর কার্যকারিতা যাচাই করা।

মাঠ দিবসে আগত অতিথিবৃন্দ গবেষণা প্লট পরিদর্শন করে ধানের গাছের বৃদ্ধি, কুশি সংখ্যা, সবুজত্ব, শীষ গঠন ও সামগ্রিক ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করেন। পরে গবেষক দল বিভিন্ন ফলন ও ফলন সংশ্লিষ্ট উপাত্ত সংগ্রহ করেন। মাঠ পর্যায়ে ন্যানো ফার্টিলাইজারের ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যক্ষ করে উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ ও গবেষকগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরডিএ’র মহাপরিচালক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ প্রামানিক বলেন,
“বর্তমান বোরো মৌসুমে আরডিএ, বগুড়া ন্যানো ফার্টিলাইজারের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য মাঠ পর্যায়ে ফিল্ড ট্রায়াল পরিচালনা করছে। গবেষণার ফলাফল ইতিবাচক হলে ভবিষ্যতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সারাদেশের কৃষকদের মাঝে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিতে উৎপাদন খরচ কমানো, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। ন্যানো প্রযুক্তিভিত্তিক সার কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে"।

গবেষণার টিম সদস্য ড. নূর মোহাম্মদ, উপপরিচালক বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬৯ লক্ষ মেট্রিক টন রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন দেশে উৎপাদিত হলেও বাকি ৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ন্যানো ফার্টিলাইজার অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প হতে পারে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ন্যানো ফার্টিলাইজারের মাধ্যমে কম পরিমাণ সার ব্যবহার করেও অধিক কার্যকারিতা পাওয়া সম্ভব, যা ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ হ্রাসেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ গবেষণার অগ্রগতি ও মাঠ পর্যায়ের ফলাফল পরিদর্শন শেষে মতামত ব্যক্ত করেন যে, ন্যানো প্রযুক্তি ভবিষ্যতের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারা মনে করেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন, মাটির গুণাগুণ সংরক্ষণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ন্যানো ফার্টিলাইজার আগামী দিনের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

মাঠ দিবস শেষে গবেষক, কর্মকর্তা ও অতিথিবৃন্দ ন্যানো ফার্টিলাইজারের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং কৃষি উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ফাইল ১
ফাইল ২
ফাইল ৩
ফাইল ৪
ফাইল ৫

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন